জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
রংপুরকে গন্তব্য করে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় লংমার্চ কর্মসূচি পালন করবে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় কর্মসূচির তারিখ জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শফিকুর রহমান বলেন, লংমার্চ কোনো একটি দাবিকে কেন্দ্র করে করা হচ্ছে না। বৈষম্য দূর করা, মানুষের জীবনযাত্রার সুরক্ষা, শিল্প খাত রক্ষা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুতের মতো বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দাবি রয়েছে। একই সঙ্গে খুনিদের বিচারের দাবিকেও তিনি জনগণ ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।
এর আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত প্রথম লংমার্চ করেছে জোটটি। সেই কর্মসূচিতে গাড়িবহর ব্যবহারের সমালোচনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা গাড়িবহর নিয়েই গিয়েছিলেন। তবে কর্মসূচিকে বড় আকার দেওয়ার সুযোগ থাকলেও সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে প্রতীকী বহর রাখা হয়েছিল।
প্রথম লংমার্চে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের দাবিও করেন জামায়াত আমির। তার ভাষ্য, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাওয়ার পথে বিভিন্ন স্থানে মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে শুধু দলীয় নেতাকর্মী ছিলেন না, সাধারণ মানুষও ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
খুনিদের বিচারের দাবিকে জনগণের পাশাপাশি শহীদদের মা-বাবা ও সাধারণ মানুষের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দাবির প্রতি মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
দ্বিতীয় লংমার্চ সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম কর্মসূচি একটি রুটে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং পরবর্তী কর্মসূচিগুলো ধাপে ধাপে হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরের দিকে দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম লংমার্চে জনদুর্ভোগ হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। কর্মসূচিটি সুশৃঙ্খল ছিল উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এরপরও সামান্য কোনো ভোগান্তি হয়ে থাকলে জনগণের কাছে তারা দুঃখ প্রকাশ করছেন।
লংমার্চের দাবিগুলো কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয় বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তার দাবি, কাউকে ক্ষমতা থেকে সরানো বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর উদ্দেশ্যে এসব কর্মসূচি নয়; বরং জনগণের অভিপ্রায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
সাংবাদিকদেরও এসব কর্মসূচি নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান শফিকুর রহমান। বিরোধী দল হিসেবে তাদের সহযোগিতা করার পাশাপাশি ভুল হলে সমালোচনা করার আহ্বানও জানান তিনি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে নেওয়া কর্মসূচিগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরতেও সাংবাদিকদের সহযোগিতা চান তিনি।
সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এতদিন আলোচনা হয়েছে। জনগণের দাবিগুলো সরকার মেনে নিলে লংমার্চের প্রয়োজন হবে না। তবে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের কিছুটা ত্যাগ ও ভোগান্তি স্বীকার করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দ্বিতীয় লংমার্চ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!