যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬,২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ২৯ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০২ PM ৪৯
ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ২৯ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে

ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুরের নেছারাবাদে গোপনে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম বলদিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় খেজুরবাড়ি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগী রতন কুমার বাগচীর ভাষ্য, প্রতিবেশী এক বিধবা নারীর বাড়িতে পান খেতে যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম, সবুজ বাগচী ও মো. শরীফ হোসেন সেখানে প্রবেশ করেন। তাঁরা রতনের বিরুদ্ধে ওই নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে ভিডিও ধারণের কথা জানান। এরপর ভিডিও প্রকাশ না করার বিনিময়ে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

রতন কুমার বাগচী জানান, সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় তিনি দুই দফায় মোট ২৯ হাজার টাকা দেন। প্রথমবার ২০ হাজার এবং পরে আরও ৯ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি। পরে স্থানীয়দের বিষয়টি জানানো হলে অভিযুক্তরা কথিত ভিডিও দেখাতে পারেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

রতনের ভাষ্য, ওই নারীর পরিবারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সূত্রেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া যেত; কিন্তু ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিচার চান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোজ কুমার ঢালীও জানান, দুই পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই পারিবারিক যোগাযোগ রয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি উভয় পক্ষকে ডেকেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আপত্তিকর অবস্থায় দুজনকে পাওয়ার দাবির পক্ষে কোনো ভিডিও বা নির্দিষ্ট প্রমাণ দেখাতে পারেননি অভিযুক্তরা। তাঁর মতে, ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা নেওয়া সমর্থনযোগ্য নয়।

তবে আরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, ওই নারী ও রতন কুমার বাগচীর মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদা নেননি; মিষ্টি খাওয়ার জন্য দুই হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দিয়েছেন।

কথিত ভিডিও ধারণের বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফুল ইসলাম রাতে ভিডিও করায় সেটি পরিষ্কার হয়নি বলে দাবি করেন। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির এক নেতার নাম জড়ানোর কথাও স্থানীয়ভাবে ছড়ায়। বলদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার এনামুল হক রতন ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফুল ইসলামের সঙ্গে বিএনপির রাজনীতির কোনো সম্পৃক্ততা পাননি বলে জানান। তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে ডেকে কথা বলে প্রকৃত ঘটনা জানার চেষ্টা করা হবে।

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!