যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর ২০২৬,২০ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউপি ভোটের সূচির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফেরার তারিখ জড়ানো দাবি ভিত্তিহীন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ PM ৫৪
ইউপি ভোটের সূচির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফেরার তারিখ জড়ানো দাবি ভিত্তিহীন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়কে যুক্ত করে প্রকাশিত একটি খবরকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট। তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচিটি ছিল প্রাথমিক ও সম্ভাব্য; সেটিকে চূড়ান্ত ধরে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করা ঠিক নয়।

বাংলাফ্যাক্টের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’ একটি প্রতিবেদনে দাবি করে, ১৩ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোট হতে পারে এবং শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময়কে কেন্দ্র করে বিএনপি সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছে। ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ওই সময় নির্বাচন কমিশনের সূচি চূড়ান্ত ছিল না।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পরীক্ষা ও অন্যান্য জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ভোটের সময় নির্ধারণের বিষয়টি তখনও পর্যালোচনায় ছিল। কমিশনের পক্ষ থেকে ১৩ ডিসেম্বরসহ কয়েকটি তারিখকে সম্ভাব্য সময়সূচির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও সেগুলো চূড়ান্ত নির্বাচনী তারিখ ছিল না।

এর মধ্যে ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত পরীক্ষা নির্ধারিত রয়েছে। শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, এ বছরের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ৮ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ১৫ ডিসেম্বর শেষ হবে এবং ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ফলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচির সঙ্গে ওই পরীক্ষার সময়সূচি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে। এ কারণে নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন পরীক্ষা, রোজা এবং ২০২৭ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

তবে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গটি পুরোপুরি মনগড়া নয়। জুলাই মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আগস্টেও তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অর্থাৎ শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার বক্তব্যের অস্তিত্ব রয়েছে; কিন্তু এর সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কোনো নির্দিষ্ট ভোটের তারিখের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে ১৩ ডিসেম্বরকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করে নির্বাচনী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উপস্থাপনের দাবিটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

এদিকে বাংলাদেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি নিয়মিতভাবে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরে আসছে। বাংলাফ্যাক্টের কাজের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবি যাচাই করে সঠিক তথ্য তুলে ধরা অন্তর্ভুক্ত।

ইউপি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাই সম্ভাব্য সময়সূচি এবং চূড়ান্ত নির্বাচনী তফসিলের মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাব্য তারিখকে নিশ্চিত ভোটের দিন হিসেবে উপস্থাপন করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!