ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলাটিতে বর্তমানে চার আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তাঁরা হলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক কর্নেল (অব.) আনোয়ার লতিফ খান।
অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ সাত আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ। পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ পলাতক সাত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন। একই দিনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর আগে ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ পলাতক সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। নির্ধারিত দিনে তাঁরা আত্মসমর্পণ না করায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের খরচে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়।
আজকের শুনানিতে গ্রেপ্তার তিন আসামির জামিন আবেদনের বিষয়েও আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। ৭ সেপ্টেম্বর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খানের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছিল। তাঁদের আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্যও ২৪ সেপ্টেম্বর দিন রাখা হয়।
এর আগে ২৬ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে আসে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়াপাড়ায় মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা এবং হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি; আজকের শুনানির পর মামলাটির পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!