চট্টগ্রামের সামনে ছিল প্রথম শিরোপার হাতছানি। আসরের শুরুতে ফ্রাঞ্চাইজি ইস্যু ছাপিয়ে বিসিবির অধীনে দারুণ খেলে ফাইনালে উঠে এসেছিল শেখ মেহেদী হাসানের দল। কিন্তু শেষটা রাঙাতে পারল না বন্দরনগরীর দলটি। তানজিদ হাসান তামিমের (৬২ বলে ১০০) অবিস্মরণীয় সেঞ্চুরির পর বিনুরা ফার্নান্দোর দুর্দান্ত বোলিংয়ে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে চার বছর পর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) শিরোপা পুনরুদ্ধার করল নাজমুল হোসেন শান্তর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
শুক্রবার হোম অব ক্রিকেট মিরপুরের শেরেবাংলায় উত্তাপ ছড়ানো ফয়সালার মঞ্চে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিলেন চট্টগ্রাম অধিনায়ক মেহেদী। ওপেনার তামিমের মাস্টার ক্লাস ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের ‘চ্যালেঞ্জিং’ স্কোর গড়ার পর ১৭.৫ ওভারে প্রতিপক্ষকে ১১১ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে উল্লাসে মাতে রাজশাহী। এর আগে একবারই শিরোপা জিতেছিল তারা, ২০২০ সালের সপ্তম আসরে। অন্যদিকে দুবার রানার্সআপ চট্টগ্রাম বিপিএলে কখনোই সেই স্বাদ পায়নি।
বিপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। ২০২৪, ২০২৫ সালের সবশেষ দুই বিপিএলে শিরোপা জিতেছে ফরচুন বরিশাল। তবে কুমিল্লা, বরিশালের কেউই এবার খেলেনি বিপিএলে। ২০২৫ বিপিএলে রানার্সআপ হয়েছিল চট্টগ্রাম। সেবার ফ্রাঞ্চাইজিটির নাম ছিল চিটাগং কিংস। ফাইনাল নিয়ে ভক্ত-সমর্থকরা যে রোমাঞ্চের আশা করেছিলেন, সেটার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিংÑতিন বিভাগেই চট্টগ্রামকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ করেছে রাজশাহী। ১৭৫ রানের লক্ষ্যে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চট্টগ্রাম।
যার শুরুটা করেন বিনুরা ফার্নান্দো। তৃতীয় ওভারের তৃতীয় ও পঞ্চম বলে নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়েছেন ফার্নান্দো। নাঈম ৯ রান করলেও জয় রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নিয়েছেন। চতুর্থ উইকেটে জাহিদুজ্জামান ও মির্জা বেগের ২৩ বলে ২৫ রানের জুটিটাই চট্টগ্রামের ইনিংসে সর্বোচ্চ জুটি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকা চট্টগ্রাম। ২ রানে হারায় শেষ ৪ উইকেট। সর্বোচ্চ ৩৯ রান করেন চট্টগ্রাম ওপেনার মির্জা বেগ। ৩৬ বলের ইনিংসে মেরেছেন ২ চার ও ১ ছক্কা। রাজশাহীর ফার্নান্দো ৩ ওভারে ৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। হাসান মুরাদ পেয়েছেন ৩ উইকেট। ২ ও ১ উইকেট পেয়েছেন জেমস নিশাম ও আবদুল গাফফার সাকলাইন। এর আগে রাজশাহীর ব্যাটিংয়ের গল্পটা কেবলই সেঞ্চুরিয়ান তামিমের।
বিপিএল ফাইনালে এখন পর্যন্ত তিন ব্যাটার সেঞ্চুরি করেছেন। ২০১৭ সালে মিরপুর শেরেবাংলায় ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ক্রিস গেইল ৬৯ বলে ৫ চার ও ১৮ ছক্কায় করেছিলেন ১৪৬ রান। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে তিনি খেলেছিলেন রংপুর রাইডার্সের হয়ে। দুই বছর পর (২০১৯) এই মিরপুরেই ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তামিম ইকবাল। সাত বছর পর আজ আরেক তামিম বিপিএল ফাইনালে করলেন সেঞ্চুরি। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে তানজিদ তামিম এবার সেঞ্চুরি করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে।
আগে ব্যাটিং পেয়ে রয়েসয়ে শুরু করেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের দুই ওপেনারÑসাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম। প্রথম ৬ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪০ রান করে রাজশাহী। তামিমের রান তখন ১৬ বলে ২২। সপ্তম ওভার থেকে গিয়ার বদলানো শুরু করে দলটি। শেখ মেহেদী হাসানের করা ওভার থেকে ১৩ রান নিয়েছে রাজশাহী। যার মধ্যে তানজিদ তামিম টানা দুই ছক্কা মেরেছেন। উদ্বোধনী জুটিতে ৬২ বলে ৮৩ রান যোগ করেন তানজিদ তামিম ও ফারহান। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ফারহানকে (৩০) ফেরান মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।
একপ্রান্তে থেকে তানজিদ তামিম তাঁর স্বভাবসুলভ ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন। ৬১ বলে তুলে নিয়েছেন বিপিএল ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। তবে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর নিজের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলেই আউট হয়েছেন তিনি। ১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে তাঁকে ফিরিয়েছেন মুগ্ধ। ৬২ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় তামিম করেছেন ১০০। ইনিংসের শেষ ওভারে চট্টগ্রাম রয়্যালসের শরীফুল ইসলাম ৫ রানে নিয়েছেন ১ উইকেট। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানে শেষ করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। চট্টগ্রামের শরীফুল, মুগ্ধ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।
এর আগে দুটি ভিন্ন দলের হয়ে বিপিএলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি। এরপর ২০২৫ সালে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তিনি। সেবার তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল দুর্বার রাজশাহী। এর আগে দুই বিপিএল ফাইনালে যাঁরা সেঞ্চুরি করেছিলেন, তাঁদের দলই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!