যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কাতার নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হলেন বাংলাদেশের ফাতেমা তুজ জোহরা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬, ০৬:২৪ PM

৫০
কাতার নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হলেন বাংলাদেশের ফাতেমা তুজ জোহরা

বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক ক্রিকেটার ফাতেমা তুজ জোহরা । ছবি: সংগৃহীত

ক্যারিয়ারের শুরুটা খেলোয়াড় হিসেবে হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব বেশি সুযোগ পাননি ফাতেমা তুজ জোহরা। বাংলাদেশের নারী জাতীয় দলের হয়ে তিনি খেলেছেন মাত্র তিনটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তবে খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ার সংক্ষিপ্ত হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে তার পথচলা থেমে থাকেনি—বরং কোচিংয়ে গড়ে তুলেছেন নতুন পরিচয়, আর সেখানেই এসেছে বড় অর্জন।

সাম্প্রতিক সময়ে ফাতেমা তুজ জোহরা কাতার নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি নিজেই গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করা এই সাবেক জাতীয় ক্রিকেটারের নতুন দায়িত্বকে বাংলাদেশি নারী ক্রিকেট কোচিংয়ের জন্যও একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০০৭ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া ফাতেমা খেলোয়াড়ি ক্যারিয়ারের পর কোচিংয়ে যুক্ত হন। তিনি শুরু করেন বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে কোচিং ক্যারিয়ার। পরবর্তীতে ২০১১ সালে বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৭ সালে তিনি দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসেবেও কাজ করেন, যেখানে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দেশের বাইরে কোচিং অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যেও এগিয়ে যান ফাতেমা। তিনি অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেটে চুক্তিভিত্তিক কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। এরপর ২০২২ সালে মালদ্বীপ নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় দুই বছর সেখানে কাজ করার পর তিনি চীনা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের টেকনিক্যাল কোচ হিসেবেও যুক্ত হন।

ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও পরিণত কোচ হিসেবে গড়ে তোলে। সেই অভিজ্ঞতার ফলেই এবার তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন কাতার নারী ক্রিকেট দলের প্রধান কোচের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাতেমা তুজ জোহরার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট কোচিংয়ের সক্ষমতারও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। বিদেশি বিভিন্ন ক্রিকেট কাঠামোতে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা কাতার নারী দলের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

ক্রিকেট মহলে আশা করা হচ্ছে, তার নেতৃত্বে কাতার নারী দল আরও সংগঠিত ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও বাংলাদেশি নারী কোচ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুযোগ পাওয়ার পথও সুগম হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!