যুক্তরাষ্ট্র   বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬,১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার তদন্ত শুরু

খেলা ডেস্ক

খেলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬, ১১:২৯ AM

বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ফিফার তদন্ত শুরু

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মাঠে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ শেষে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

স্থানীয় সময় রোববার (১৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক-নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। তবে ম্যাচের ফলের পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে শেষ বাঁশির পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তেজনাকর ঘটনা।

ফিফা জানিয়েছে, ম্যাচ-পরবর্তী ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘনের সম্ভাব্য অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিকস প্রসিকিউটর নিয়োগ করা হয়েছে।

ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ফাইনাল ম্যাচ-পরবর্তী পরিস্থিতি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ফাইনালের পর কী ঘটেছিল?

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্যও এতে জড়িয়ে পড়েন।

ঘটনার শুরু হয় স্পেনের খেলোয়াড়দের উদযাপনের সময়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতিরিক্ত সময়ে বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার পর স্পেনের মিডফিল্ডার রদ্রি সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে যোগ দিতে মাঠে প্রবেশ করেন। এ সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার সঙ্গে তার উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এরপর স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া সতীর্থকে সহায়তা করতে এগিয়ে এলে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস তার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পারেদেস গার্সিয়ার গলায় হাত দেন।

পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন স্পেনের বদলি খেলোয়াড় গাভি। তবে তাকেও ধাক্কাধাক্কির শিকার হতে হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সময় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকেও উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি স্পেনের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।

পারেদেসের বিরুদ্ধে শাস্তির আশঙ্কা

ঘটনার পর আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস লাল কার্ড দেখেন। এর আগে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামার পর কঠোর ট্যাকলের কারণে তিনি হলুদ কার্ডও পেয়েছিলেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে পারেদেসসহ সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়রা নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নির্ভর করবে ফিফার তদন্ত প্রতিবেদন ও শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর।

মেসির আচরণ নিয়ে প্রশংসা

ফাইনালে হারের পর আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির আচরণের প্রশংসা করেছেন অনেকেই। ম্যাচ শেষে মেসিকে স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায়।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বলেন, পরাজয়ের পর মেসি যেভাবে প্রতিপক্ষকে সম্মান দেখিয়েছেন, সেটি প্রশংসনীয়।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারারও পারেদেসের আচরণের সমালোচনা করে বলেন, মাঠে এ ধরনের আচরণের কোনো স্থান নেই।

অতীতেও শাস্তির মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা

খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে এর আগেও সমালোচনার মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের উদযাপন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ জয়ের পর গোল্ডেন গ্লাভস ট্রফি নিয়ে অঙ্গভঙ্গি এবং ফ্রান্সের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে মন্তব্যের কারণে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে জরিমানা করেছিল ফিফা।

এ ছাড়া ২০২৪ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগে মার্তিনেজকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?

ফিফার শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা, ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা কিংবা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তদন্তের সময় খেলোয়াড়দের আচরণ, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের ভূমিকা বিবেচনা করা হবে।

তবে ফিফা এখনো তদন্ত শেষ করার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের পর এমন ঘটনা ফুটবলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন সবার নজর ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!