ছবি: সংগৃহীত
মানুষ ছুটছে একটু ভালোভাবে বাঁচার আশায়। সড়কপথ হোক কিংবা সমুদ্রপথ, দারিদ্র্য থেকে মুক্তি আর উন্নত জীবনের সন্ধানে মানুষের এই ছুটে চলা থেমে নেই। কংকরময় পথে কিংবা উত্তাল সমুদ্রে মৃত্যুঝুঁকি জেনেও মানুষ যাত্রা শুরু করে, যদি ভাগ্যে জোটে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবন। সেই আশায় বুক বেঁধে মাঝসমুদ্রে নামে মানুষের ঢল। ভূমধ্যসাগরের জলরাশি তাই আবার উত্তাল।
গত কয়েকদিনে স্পেনের উত্তর আফ্রিকান স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সেউতার সীমান্তে একযোগে প্রবেশের চেষ্টা হাজারো অভিবাসীর। না জানি কত প্রাণ তলিয়ে গেছে সমুদ্রের অতলে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাণহানির সংখ্যাও উদ্বেগজনক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আবারও উঠে এসেছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। প্রশ্ন জাগে, ভয়াবহ জীবনঝুঁকি নিয়ে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি ও উন্নত জীবনের সন্ধানে মানুষের এই মরিয়া যাত্রা কি কেবল মানবিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ নাকি এর পেছনে রয়েছে গভীর কোনো ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা?
নিঃসন্দেহে এটি একটি মানবিক সংকট। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বহু মানুষ যুদ্ধ, দারিদ্র্য, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে বাঁচতে ইউরোপে পৌঁছাতে চান। সেউতার কাঁটাতারের অবস্থানের দিকে মনোযোগ দিলে বোঝা যায়, এই সীমান্ত শুধু মানুষের যাত্রাপথ নয়; এটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মরক্কো, স্পেন, আলজেরিয়া, ফ্রান্স এবং পশ্চিম সাহারাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এক জটিল ভূরাজনৈতিক সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে মানুষের চলাচল অনেক সময় রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা কৌশল এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়ে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত ধারণায় ক্ষমতা দীর্ঘদিন সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে একবিংশ শতাব্দীতে সেই ধারণার পরিসর অনেক বিস্তৃত। আজ জ্বালানি, প্রযুক্তি, সরবরাহ শৃঙ্খল, সাইবার নিরাপত্তা, বিরল খনিজ সম্পদ, এমনকি অভিবাসনও কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের অন্যতম কারণ। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ, জ্বালানি করিডর কিংবা অভিবাসন রুট নিয়ন্ত্রণ করতে পারা রাষ্ট্রের কূটনৈতিক গুরুত্বও বেশি। মরক্কো-ইউরোপ সম্পর্ক সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ।
সংকটের সবচেয়ে দৃশ্যমান কারণ অর্থনৈতিক বৈষম্য। গত এক দশকে মরক্কোর অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও যুবসমাজের বেকারত্ব, আঞ্চলিক বৈষম্য এবং সীমিত কর্মসংস্থান এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে মালি, নাইজার, সেনেগাল, গিনি, সুদান ও আইভরি কোস্টের মতো দেশ থেকে হাজারো মানুষ মরক্কোতে এসে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগের অপেক্ষায় থাকে। তাদের কাছে ইউরোপ শুধু একটি ভৌগোলিক গন্তব্য নয়; নিরাপদ জীবন, স্থিতিশীল আয়, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং ভবিষ্যতের আশার প্রতীক।
তবে অর্থনৈতিক সংকটই বাস্তবতার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা নয়। উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী খরা, কৃষি উৎপাদন হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সশস্ত্র সংঘাত এবং মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয়তা-সব মিলিয়ে অভিবাসনের চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। অনেকের কাছেই নিজ দেশে থেকে ধীরে ধীরে নিঃস্ব হওয়ার চেয়ে অনিশ্চিত সমুদ্রযাত্রা অপেক্ষাকৃত কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়। ফলে ভূমধ্যসাগর কেবল সমুদ্র নয়, আশা ও হতাশার মধ্যবর্তী এক বিপজ্জনক সীমানা।
এই বাস্তবতায় মরক্কোর ভৌগোলিক অবস্থান তাকে দিয়েছে অনন্য কৌশলগত গুরুত্ব। আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর পথে এটি শেষ বড় ট্রানজিট রাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিভাষায় মরক্কোকে প্রায়ই ‘প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণকারী রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবাহ অনেকাংশে নির্ভর করে মরক্কোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর, তার ওপর। এ কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন বহু বছর ধরে মরক্কোকে সীমান্ত নিরাপত্তা, উপকূলীয় নজরদারি, মানবপাচার দমন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউরোপের দৃষ্টিতে মরক্কো কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয় বরং বহিঃসীমান্ত সুরক্ষার অন্যতম অংশীদার। ইউরোপের কৌশল হলো, অনিয়মিত অভিবাসনের প্রবাহ যেন তার নিজস্ব সীমান্তে পৌঁছানোর আগেই ট্রানজিট রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়।
এই সহযোগিতা শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকেই শক্তিশালী করেনি, সৃষ্টি করেছে পারস্পরিক নির্ভরতা। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন দুটি রাষ্ট্র নিরাপত্তা, অর্থনীতি কিংবা অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে ওঠে, তখন সেই নির্ভরতাই কূটনৈতিক প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ উৎসে পরিণত হয়। মরক্কো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক তারই বাস্তব উদাহরণ।
কোনো রাষ্ট্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে হাজার হাজার মানুষকে সীমান্ত অতিক্রম করতে দিচ্ছে, বাস্তবে বিষয়টি এত সরল নয়। সীমান্তে আইন প্রয়োগের মাত্রা, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয়তা, স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কূটনৈতিক সম্পর্কের অবস্থা এবং অভিবাসনের চাপ-সব মিলিয়ে একটি জটিল বাস্তবতা তৈরি হয়। তাই প্রতিটি অভিবাসী ঢল যেমন সরাসরি কূটনৈতিক ষড়যন্ত্র নয়, তেমনি শুধুই মানবিক বিপর্যয় বলে ব্যাখ্যা করাও অসম্পূর্ণ।
আলোচিত উদাহরণ ২০২১ সালের সেউতা সংকট। মানবিক কারণে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী সংগঠন পলিসারিও ফ্রন্টের নেতা ব্রাহিম গালিকে চিকিৎসার জন্য স্পেনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলে মরক্কো তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর কিছুদিনের মধ্যেই অল্প সময়ের ব্যবধানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ সেউতায় প্রবেশ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক কর্মকর্তা ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করেন দুই দেশের চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। তবে মরক্কো সরকার কখনোই এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিতর্কিত উদাহরণ।
এই ঘটনাটিই সামনে আনে বাস্তবতা। বর্তমান বিশ্বে অভিবাসন কেবল মানবিক সংকটের বিষয় নয়; এটি নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। এই জটিল সমীকরণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পশ্চিম সাহারা, যার প্রভাব শুধু মরক্কো ও স্পেনের সম্পর্কেই নয়, আলজেরিয়া, ফ্রান্সসহ সমগ্র ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত অবস্থানেও প্রতিফলিত হয়।
সেউতা সংকটকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে প্রকৃত তাৎপর্য অনুধাবন করা কঠিন। পশ্চিম সাহারা উত্তর আফ্রিকার এমন একটি ভূখণ্ড, যা কয়েক দশক ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম জটিল বিরোধের কেন্দ্র। ১৯৭৫ সালে স্পেন উপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটানোর পর মরক্কো অঞ্চলটির অধিকাংশ অংশের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। অন্যদিকে পলিসারিও ফ্রন্ট স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং আলজেরিয়া দীর্ঘদিন ধরে তাদের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন দিচ্ছে। জাতিসংঘ পশ্চিম সাহারাকে একটি অমীমাংসিত আত্মনিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে এই ইস্যুতে স্পেনের প্রতিটি অবস্থান একই সঙ্গে মরক্কো ও আলজেরিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ককে করে প্রভাবিত।
এই বাস্তবতারই প্রতিফলন দেখা যায় ২০২২ সালে, যখন স্পেন মরক্কোর প্রস্তাবিত পশ্চিম সাহারা স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ভিত্তি হিসেবে সমর্থন জানায়। ফলে মরক্কোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন অনেকটাই প্রশমিত হয়। বিপরীতে আলজেরিয়া তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে; দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে চাপের সৃষ্টি হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপ যখন বিকল্প জ্বালানির উৎস খুঁজছিল, তখন আলজেরিয়া প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে আরও কৌশলগত গুরুত্ব অর্জন করে। ফলে স্পেনকে সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য মরক্কো এবং জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে আলজেরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়েছে।
এই সমীকরণে ফ্রান্সও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। উত্তর আফ্রিকায় ঐতিহাসিক প্রভাব, নিরাপত্তা সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের কারণে মরক্কো দীর্ঘদিন ধরেই ফ্রান্সের অন্যতম ঘনিষ্ঠ অংশীদার। যদিও ভিসা নীতি এবং পশ্চিম সাহারা প্রশ্নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত উভয় পক্ষই সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে এগিয়েছে। কারণ মরক্কোর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি শুধু দ্বিপক্ষীয় কূটনীতিই নয়; এটি ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকেও প্রভাবিত করতে পারে। এখানেই অভিবাসন কূটনীতির গুরুত্ব স্পষ্ট। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো অনেক সময় একটি রাষ্ট্রের কৌশলগত মূল্য ও কূটনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। মরক্কোর বর্তমান ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও এই বাস্তবতার মধ্যেই নিহিত।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত বহির্গমন নীতি নিয়েও বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো, অভিবাসীরা ইউরোপীয় ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আগেই ট্রানজিট রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে তাদের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা। সমর্থকদের মতে, এতে মানবপাচার কমানো সম্ভব হয় এবং সমুদ্রপথে প্রাণহানিও হ্রাস পায়। সমালোচকদের যুক্তি, এই নীতির মাধ্যমে ইউরোপ তার সীমান্ত ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর স্থানান্তর করছে, যা মানবাধিকার এবং আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
তবে মরক্কো-স্পেন সীমান্তের প্রতিটি অভিবাসী ঢল কেবল কূটনৈতিক প্রতিযোগিতার বিষয় নয় অর্থনৈতিক বৈষম্য, যুব বেকারত্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, দীর্ঘস্থায়ী খরা, আঞ্চলিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র-সমস্ত কিছুই এই সংকটের জন্য দায়ী।
ইউরোপ এখন দ্বৈত বাস্তবতার মুখোমুখি। একদিকে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্তে আরোপিত হচ্ছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্যদিকে জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং শ্রমশক্তির ঘাটতি মোকাবিলায় বৈধ শ্রম অভিবাসনের পথও করা হচ্ছে সম্প্রসারণ। অর্থাৎ ইউরোপের লক্ষ্য অভিবাসন পুরোপুরি বন্ধ করা নয় বরং অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রিত ও প্রয়োজনভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
মরক্কো-স্পেন অভিবাসন সংকট তাই কেবল দুটি দেশের সীমান্ত-সংক্রান্ত সমস্যা নয়; এটি মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত নিরাপত্তা, জ্বালানি রাজনীতি এবং পরিবর্তিত ভূরাজনীতির একটি জটিল আন্তঃসম্পর্কের প্রতিফলন। সেউতার কাঁটাতার শুধু একটি সীমান্তের প্রতীক নয়; এটি আজকের বিশ্বের অসম উন্নয়ন, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, নিরাপত্তা-উদ্বেগ এবং বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তিত বাস্তবতারও প্রতীক। যতদিন আফ্রিকা ও ইউরোপের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু সংকট এবং উন্নয়নের অসমতা বিদ্যমান থাকবে, ততদিন ভূমধ্যসাগরের এই জলপথ শুধু মানুষকেই নয়, বহন করবে বৈশ্বিক রাজনীতির অমীমাংসিত বাস্তবতাকেও। একবিংশ শতাব্দীতে কাঁটাতারের ওপারে শুধু মানুষ নয়, প্রতিনিয়ত সীমান্ত অতিক্রম করে কূটনীতি, নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতির জটিল সমীকরণও।
লেখক: গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী
মরক্কো-স্পেন সেউতা সীমান্ত ভূমধ্যসাগর অভিবাসন
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!