দেশ ও জাতির ধ্বংসের মূল কারণ: দুর্নীতি নয়, নীরবতা – রহমান মৃধা বিশ্লেষণ। ছবি: সংগৃহীত
সমসাময়িক বাংলাদেশে যখন সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়ায় দুর্নীতি, তখন গবেষক ও লেখক রহমান মৃধা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, দেশের এবং জাতির জন্য সবচেয়ে ভয়ংকর শত্রু হলো নীরবতা।
উনিশ শতকের শেষভাগে, স্বামী বিবেকানন্দের সমাজচিত্রে দেখা গেছে, শিক্ষিত ও প্রভাবশালী মানুষরা অন্যায় বুঝেও চুপ থাকতেন। এই নৈতিক নির্লজ্জতা ও নীরবতা আজকের বাংলাদেশেও দেখা যায়। প্রশাসন জানে, বুদ্ধিজীবী সমাজ বোঝে, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ক্ষুব্ধ হয়, কিন্তু কেউ সামনে আসে না। এভাবে সমাজের নীরবতা দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি দান করে।
রহমান মৃধা বলেন, “দেশ ও জাতির ধ্বংস যদি শুধু দুর্নীতির কারণে হত, তাহলে এত নীরব দর্শকের প্রয়োজন হত না। সত্যিকারের বিপর্যয় ঘটে তখনই, যখন সমাজ অন্যায় দেখেও চুপ থাকে।”
তিনি ইতিহাসের উদাহরণ টানেন—জুলাই গণঅভ্যুত্থান যেখানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের সাহস দেখেছিল দেশের ক্ষমতার অলিন্দ কাঁপিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে নীরবতা ফিরেছে, এবং পুরনো সুবিধা, ক্ষমতার বলয় আগের মতোই কাজ করছে।
রহমান মৃধা আরও বলেন, নীরবতা কোনো অসহায়ত্ব নয়, এটি সচেতন পছন্দ। অনেকেই নিজের নিরাপত্তা ও সুবিধা রক্ষা করতে অন্যায়ের বিরুদ্ধে চুপ থাকেন। কিন্তু এই নীরবতা সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করে, দুর্নীতিকে স্বাভাবিক করে তোলে, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনৈতিকতার উত্তরাধিকার তৈরি করে।
লেখক স্বামী বিবেকানন্দ এবং ইমাম আলীর শিক্ষা স্মরণ করিয়ে দেন। জ্ঞান যথেষ্ট নয়; সাহসিকতা, নৈতিক দায়িত্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সমাজকে রক্ষা করে। ছোট কিন্তু দৃঢ় পদক্ষেপ থেকেই শুরু হয় নৈতিক দায়িত্ব ও সমাজের পরিবর্তন।
আজকের বাংলাদেশে এই বার্তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু দেখার বা বোঝার জন্য নয়, প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব নেওয়া অপরিহার্য। নীরবতা নয়, সাহসিকতা আমাদের একমাত্র শক্তি।
বাংলাদেশে নীরবতার প্রভাব দুর্নীতি বনাম নীরবতা রহমান মৃধা বিশ্লেষণ
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!