যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১ আগস্ট ২০২৬,১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ লাখ কোটি টাকার পণ্য পরিবহন, রাজস্ব আয় প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ PM

২৮
চট্টগ্রাম বন্দরে ১১ লাখ কোটি টাকার পণ্য পরিবহন, রাজস্ব আয় প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দর ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পণ্য পরিবহন ও রাজস্ব আয়ের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে এই বন্দর দিয়ে প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকার পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়েছে। এসব কার্যক্রম থেকে সরকারের কোষাগার এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মিলিয়ে মোট প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরজুড়ে প্রায় ১০ কোটি ৭৫ লাখ টন আমদানি পণ্য খালাস হয়েছে। এসব পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাবদ সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৮৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে একই সময়ে বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৯ লাখ টন রপ্তানি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। রপ্তানি পণ্যের শুল্কায়িত মূল্য ছিল প্রায় ৫ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। যদিও অধিকাংশ রপ্তানি পণ্যে শুল্ক না থাকায় এ খাত থেকে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ তুলনামূলক কম।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদায়ী অর্থবছরে শুধু চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসেই রাজস্ব আদায়ে ১২ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর রাজস্বের পরিমাণ আরও কিছুটা বাড়তে পারে বলেও তারা আশা করছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কনটেইনার ও বাল্ক কার্গোসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন থেকে বন্দরের নিজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৫ কোটি টাকায়। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ৩ হাজার ১৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বন্দরের পরিচালন আয় প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, পণ্য পরিবহনের পরিমাণ বৃদ্ধি, সেবার চাহিদা এবং ট্যারিফ সমন্বয়ের কারণে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বন্দরের আয়ের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে জমা হলেও বাকি অর্থ অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিচালন ব্যয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরকে কেন্দ্র করে বেসরকারি খাতেও ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান অপারেটরসহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি রাজস্বের বাইরে প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এই বন্দরকে ঘিরে।

চট্টগ্রাম বন্দর আমদানি রপ্তানি বাংলাদেশ অর্থনীতি

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!