ছবি: সংগৃহীত
উৎপাদন খরচ বিবেচনায় ডিমের ন্যায্য বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ এবং দেশের পোল্ট্রি খামারিদের জন্য একটি জাতীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এসব দাবি তুলে ধরেন। এর আগে একই দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন পোল্ট্রি খামারিরা।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের অনেক ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তারা নিয়মিত লোকসানের মুখে পড়ছেন এবং অনেক খামারি ঋণের চাপে খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ, বাজার পরিস্থিতি ও খামারিদের বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করে ডিমের একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। এতে খামারিরা ন্যায্য লাভের সুযোগ পাবেন এবং দেশের ডিম উৎপাদন ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকবে।
বিপিআইএর পক্ষ থেকে দেশের সব পোল্ট্রি খামারির তথ্য নিয়ে একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরিরও দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির মতে, এমন ডাটাবেজ চালু হলে প্রকৃত খামারিদের শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সরকারি সহায়তা, প্রণোদনা ও স্বল্পসুদে ঋণ সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সংগঠনের মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, পোল্ট্রি খাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি জাতীয় পোল্ট্রি বোর্ড গঠনের দাবি জানান এবং বলেন, উৎপাদন ব্যয় কমানো গেলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প আরও শক্তিশালী খাতে পরিণত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে পূর্বাঞ্চলের বন্যায় পোল্ট্রি খাতের ক্ষতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। সংগঠনের নেতারা জানান, বন্যার কারণে অনেক খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মুরগি মারা যাওয়ায় অনেক উদ্যোক্তা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তারা অভিযোগ করেন, উৎপাদক পর্যায়ে কম দামে ডিম বিক্রি হলেও ভোক্তা পর্যায়ে দাম অনেক বেশি থাকে। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে বাজার ব্যবস্থায় এই বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিমের দাম বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!