যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ১ আগস্ট ২০২৬,১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে নতুন শুল্ক, রপ্তানিকারকদের কার্যকর ট্যারিফ থাকছে ২৫ শতাংশের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১৩ PM

২১
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যে নতুন শুল্ক, রপ্তানিকারকদের কার্যকর ট্যারিফ থাকছে ২৫ শতাংশের বেশি

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর মোট কার্যকর শুল্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ বা তার বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রোধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে এই নতুন শুল্ক আরোপ করেছে। এর আগে বাংলাদেশি পণ্যে গড়ে ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ শুল্ক দিতে হতো। এর সঙ্গে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কের পরিমাণ বেড়েছে।

তবে রপ্তানিকারকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন হবে না। কারণ আগে যে ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক চালু ছিল, সেটির পরিবর্তে একই হারে নতুন আইনি কাঠামোর আওতায় শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য আইনের সেকশন ৩০১-এর আওতায় নতুন এই শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এর আগে সেকশন ১২২-এর আওতায় ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক কার্যকর ছিল, যার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) বাংলাদেশসহ প্রায় ৬০টি দেশের শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চালায়। তদন্তে অভিযোগ করা হয়, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি বন্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রায় ৯৯ শতাংশের বেশি রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি, কিছু খাদ্যপণ্য, নির্দিষ্ট ধাতব পণ্য এবং কিছু বিশেষ বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত পণ্য এ শুল্কের বাইরে থাকবে।

বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, নতুন শুল্ক কার্যকরের ফলে দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের ১০ শতাংশ শুল্কের পরিবর্তে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক চালু হয়েছে, তাই কার্যকর শুল্ক পরিস্থিতি একই থাকছে।

সরকারের মতে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামোয় তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো কয়েকটি প্রতিযোগী দেশের ওপর তুলনামূলক বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।

রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ জানিয়েছে, নতুন ঘোষণায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশেষ বাণিজ্য সমঝোতার পরও বাড়তি সুবিধা না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা রয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নতুন শুল্ক ব্যবস্থায় বাংলাদেশের জন্য বাস্তবিক ট্যারিফ পরিবর্তন হয়নি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কের জায়গায় নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হয়েছে।

তবে কিছু ব্যবসায়ী মনে করছেন, বিষয়টি শুধু প্রতিযোগিতার নয়, বরং ন্যায্যতারও। তাদের প্রশ্ন, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, তখন একই ধরনের শুল্ক আরোপ কতটা যৌক্তিক।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের জন্য শ্রমমান উন্নয়ন, সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক সুবিধা বাড়ানোর সুযোগ খুঁজতে হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য দেশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নতুন শুল্কের প্রভাব ভবিষ্যতে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে বাজার পরিস্থিতি ও দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনার ওপর।

বাংলাদেশ রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্য মার্কিন বাজার

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!